বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ওয়ানডে একাদশ 

ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য সেরা একাদশ

১৯৮৬ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটের যাত্রা শুরু করে ৩৫ বছরে বাংলাদেশ দল হিসাবে অনেক উন্নতি সাধন করেছে।  এই উন্নতিতে বিভিন্ন ক্রিকেটারগন দলের হয়ে অবদান রেখেছেন। আমরা চেস্টা করেছি সরবকালের সেরা ১১ জনকে বাছাই করার জারা বিভিন্ন সময়ে দলের উত্থানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

১। তামিম ইকবাল 

তামিম ইকবাল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান। পরিসংখ্যানেও এর প্রতিফলন দেখা যায়। ওপেনিং এ বাংলাদেশের হয়ে অনেক ভাল মানের ইংনিস খেলেছেন। 

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওপেনিং একটা চ্যালেঞ্জিং কাজ হওয়া সত্তেও তামিম এক যুগের বেশি সময় ধরে সফলতার সাথে বাংলাদেশের দলের হয়ে সার্ভিস দিয়ে আসছেন। তাছাড়া তিনি বাংলাদেশের সবাধিক রান সংগ্রহকারী। 

তামিম ইকবাল বাংলাদেশের হয়ে ওপেনিংয়ে ২০৭ ম্যাচে ৩৬.৭৪ গড়ে ৭২০২ রান করেছেন। ওয়ানডেতে ১৩টি শতক এবং ৪৭টি অর্ধ শতক , যা বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ। 

ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা ৫ রান সংগ্রাহক
ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা ৫ রান সংগ্রাহক

২। লিটন দাস 

বিকল্প হিসাবে সৌম্য সরকার,ইম্রুল কায়েস, শাহরিয়ার নাফিসের মতন ব্যাটসম্যান থাকা সত্ত্বেও তামিমের সঙ্গী হিসিবে ওপেনিং এ লিটন দাসকে নেওয়ার পেছেনে প্রধান কারন ডান হাতি এবং বাঁহাতি কম্বিনেশনের জন্য। ওপেনিং তার আক্রমনাত্তক মেজাজ অপর প্রান্তে তামিমকে নির্ভার হয়ে খেলতে সাহায্য করবে। 

তাছাড়া লিটন দাস এই দলের উইকেটরক্ষক হিসাবেও দায়িত্ব পালন করবেন। ওয়ানডেতে ইতিমধ্যে ওপেনিং একাধিক মারকুটে ইনিংস খেলে নিজের জাত চিনিয়েছেন। 

লিটন দাসে ৩৬ ম্যাচে ৩২.৬৯ গড়ে ১০৭৯ রান করেছেন, তার ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে তার স্ট্রাইক রেট (৯৫.২৩) । তাছাড়া ওয়ানডে ক্রিকেটে তার ৩টি শতক এবং ৩টি অর্ধ-শতক রয়েছে। 

৩। সাকিব আল হাসান 

সাকিব আল হাসানকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রান পুরুষ বলা চলে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জাতীয় দলের হয়ে অনেক ম্যাচেই অলরাউন্ড নৈপুন্য দেখিয়েছন। ওয়ানডে ক্রিকেটে নজরকাড়া পারফরম্যান্স দ্বারা সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডদের তালিকায় ওঠে এসেছেন। এই তালিকায় সাকিবের জায়গা তাই অনিবার্য। ২০১৯ ক্রিকেট বিশকাপে নিজের জাত চিনিয়েছেন ব্যাট ও বল হাতে নজরকাড়া নৈপুন্য করে।

ওয়ানডেতে দুই নাম্বার পজিশনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ , আর সেই গুরু দায়িত্বের ভার সাকিবকে রাখার পেছনে রশদ হিসাবে কাজ করেছে ক্রিকেট বিশ্বকাপে তার এই একই পজিশনে নজর কাড়া পারফরম্যান্স। তার ক্যারিয়ার গড় যেখানে ৩৭.৮৬ সেখানে ওয়ান ডাউন পজিশনে তার গড় ৫৮.৮৫ । সাকিব ব্যাটিংয়ে যেরকম বড় ভরসার নাম তেমনি বোলিংয়েও দলের অন্যতম বড় খুটি। ওয়ানডেতে ২০৬ ম্যাচে ৩০.২১ গড়ে ২৬০ উইকেট নিয়েছেন। 

৪।মুশফিকুর রহিম (উইকেট রক্ষক)

নিজের পরিশ্রম ও চেস্টার দারা মুশফিকুর রহিম জাতীয় দলে জায়গা তৈরি করছেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের হয়ে জ্বলে উঠার দারুন একটা প্রবনতা রয়েছে। লড়াই করার মানসিকতা ও ক্রিকেটের প্রতি তার নিবেদনই তাকে এই সফলতা এনে দিতে সাহায্য করেছে। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে অনেক চমকপ্রদ ইংনিস খেলেছেন। মুশফিক ওয়ানডে ক্রিকেটে ২১৮ ম্যাচে ৩৬ উপর গড়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলে হয়ে ৬০০০ এর অধিক রান করেছেন। 

৫। মোহাম্মদ আশরাফুল

ওয়ানডে ক্রিকেটে পরিসংখ্যান তার পক্ষে কথা  না বললেও তাকে দলে নেওয়ার পক্ষে প্রধান যুক্তি হল বড় দলগুলোর বিপক্ষে ভালো পারফরম্যান্স। তাছাড়া ব্যাটসম্যান হিসাবে তার সামর্থ্যের কারোই অজানা না। এছাড়া ব্যাটসম্যানদের টেকনিকের দিক থেকেই  বিবেচনা করলে আশরাফুল বাংলাদেশের মধ্যে উপরের সারিতে থাকবেন। ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ে ৫ নাম্বার পজিশনে সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছেন। ক্যারিয়ার গড় যেখানে ২২ এর কিছু উপরে সেখানে এই পজিশনে তার গড় ২৬। 

৬।মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ 

মাহামুদ্দুল্লাহ রিয়াদ কে বাংলাদেশের ক্রাইসিস ম্যান বলা হয়। পরিসংখ্যান ততটা  না হলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের হয়ে জলের ওঠার দারুন একটা প্রবনতা রয়েছে মাহামুদউল্লাহর । বিশবকাপ ক্রিকেট তার জলজ্যান্ত প্রমান। ওয়ানডে ক্রিকেটে তার ব্যাট থেকে আসা তিনটা শতকই আইসিসির টুনামেন্টে। তাছাড়া বল হাতেও তিনি বেশ সফল। ১৮৮ ওয়ানডেতে ব্যাট হাতে ৩৩.৬৩ গড়ে ৪০৭০ রান করেছেন। বোলিংয়ে ৭৬ উইকেট নিয়েছেন ৪৬ গড়ে। 

৭। মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন

মোহামদ সাইফুউদ্দিনকে এই একাদশে দেখে অনেকে বিস্মিত হতে পারেন। কিন্তু তাকে নেওয়ার পেছনে নেওয়ার সবচেয়ে বড় কারন তিনি একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার। বাংলাদেশের ক্রিকেটে পেস বোলিং অলরাউন্ডারের  খুব বেশি গৌরবময় ইতিহাস নেই। তাছাড়া নুতুন ও পুরান বলে তার দক্ষতা তাকে রাখার পেছেনে রশদ হিসাবে কাজ করেছে। যদিও তার ক্যারিয়ার খুব বেশি বড় না তাও নিচের দিকে ব্যাট হাতে চাপের মুখে বেশ কয়েকটি ভালো মানের ইংনিস খেলেছেন। ব্যাট হাতে সাইফুউদ্দিন ২২ ম্যাচে ২৯০ রান  করেছেন ৩২.২২ গড়ে এবং বোলিংয়ে ৩১ উইকেট নিয়েছেন ৩১.৩৫ গড়ে। 

৮। মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক)

বাংলাদেশের ক্রিকেটের দিন বদলের কারিগর হলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। পরিসংখ্যান নামক ক্ষুদ্র শব্দ দিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটে মাশরাফি বিন মুর্তজার অবদান বিচার করা সম্ভব না। তার অধীনে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বাঘা বাঘা দলের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে লড়াই করেছে, নিচের সারির দল থেকে মধ্যম মানের দলে পরিনত হয়েছে। বাংলাদেশের অনেক জয়ে দলের হয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মাশরাফি শুধুমাত্র বাংলাদেশ ক্রিকেটে না বিশ্ব ক্রিকেটেও অদ্বিতীয়।বার বাব ইঞ্জুরি কালো থাবার পরও দলের হয়ে মাঠে নেমে বলে হাতে দলের কান্ডারি হয়েছেন। মাশরাফি দলের হয়ে শুধু বল হাতে আলো ছড়াননি, বরং তিনি দলের প্রয়োজনে অনেক ম্যাচে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। মাশরাফি যে ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক,  সেক্ষেত্রে দ্বিমত পোষণ করার মত খুব বেশি কাউকে পাওয়া যাবেনা।  

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতহাসের নুতুন বলের সেরা বোলার এই নড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত মাশরাফি। ওয়ানডেতে ২২০ ম্যাচে ২৭০ উইকেট নিয়েছেন ৩২.৯৩ গড়ে। 

৯।আব্দুর রাজ্জাক

বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সফল স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। একটা সময় তিনি বাংলাদেশের সবচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন। বাংলাদেশের বামহাতি স্পিনারদের বর্ণাঢ্য ইতিহাসে আব্দুর রাজ্জাক উপরের দিকেই থাকেবন। আব্দুর রাজ্জাক ১৫৩ ম্যাচে ২০৭ উইকেট নিয়েছন ২৯.২৯ গড়ে। 

১০। রুবেল হোসেন

রুবেল হোসেন বাংলাদেশের অন্যতম গতিময় বোলার। বাংলাদেশ ক্রিকেটে রুবেল হোসেনের প্রত্যাবর্তন অনেকটা রুপ কথার গল্পের মত। গ্রামীনফোন পেসার হান্টের মাধ্যমে তিনি নির্বাচকদের নজর কাড়েন । তারই ধারাবাহিকথায় তিনি জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত হোন। যদিও ক্যারিয়ারের শুরু থেকে চড়াও  মধ্য দিয়ে গেছেন তার পরও তাকে নেওয়ার প্রধান কারন তার অভিজ্ঞতা।রুবেল হোসেন ১০১টি ওয়ানডে ম্যাচে ৩৪.১২ গড়ে ১২৬টি উইকেট শিকার করেছেন বাংলাদেশের হয়ে। 

১১। মুস্তাফিজুর রহমান

অনেকে বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা একাদশে মুস্তাফিজকে দেখে ভ্রু কুঁচকাতে পারেন। কিন্তু মুস্তাফিজকে নেওয়ার ক্ষেত্রে কাজ করেছে তার এক্স-ফ্যাক্টর বোলিং। নিংসন্দেহে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সেরা বোলার। বাংলাদেশ ক্রিকেটে তার উত্থান অনেকটা রূপকথার গল্পের মত। বিশ্ব ক্রিকেটে তার আবির্ভাব ভারতের বিরুদ্ধে পর পর দুই ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়ে । সেখান থেকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। ইনজুরির কারনে ক্যারিয়ার অনেকবার বাধা পড়েছিল কিন্তু প্রতিবারই সব বাধা উতরে দলের হয়ে আলো ছড়িয়েছেন। ওয়ানডে ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত ৫৮ ম্যাচে ২৩ গড়ে ১০৯টি উইকেট নিতে সক্ষম হয়েছেন। তাছাড়া মোট পাঁচ বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানড ৫ উইকেট শিকার করেছেন।

দাদশ খেলোয়াড় – নাসির রহমান

দুর্দান্তভাবে ক্যারিয়ার শুরু করে খেই হারানোর একটা উদাহরণ নাসির রহমান। ওয়ানডেতে ব্যাটিং এ বাংলাদেশ জাতীয় দলের বেশ কয়েকটি কার্যকরী ইংনিসে খেলেছেন। তাছাড়া বল হাতে বড় উইকেট শিকার করার প্রবনতা ছিল।

ব্যাটিংয়ে ৬৫ ম্যাচ খেলে ২৯.১১ গড়ে ১২৮১ রান করেছেন। বোলিং ২৪ উইকেট নিয়েছেন ৪২ গড়ে । 

বাংলাদেশের সেরা একাদশ নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলের কম্বিনেশন এবং পারফরম্যান্সকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। 

 

শেয়ার করুন

One thought on “বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ওয়ানডে একাদশ 

Leave a Reply

Your email address will not be published.