কমলগঞ্জে পুলিশ সদস্যকে বিয়ে করতে সাবেক ‘ভাবি’র অনশন

মোট পড়া হয়েছে 70 

কমলগঞ্জ সংবাদদাতাঃ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে আব্দুস সালাম নামে এক পুলিশ সদস্যের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন করছে এক নারী। সালাম উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের জাঙ্গালীয়া গ্রামের তেরাব আলীর ছেলে। অনশরত নারী সালামের চাচাতো ভাইয়ের সাবেক স্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১১টা থেকে পুলিশ সদস্য আব্দুস সালামের বাড়িতে অনশন শুরু করেন ওই নারী। শুক্রবার (০৫ নভেম্বর) সালাম গোপনে বিয়ে করতে যাচ্ছে জানতে পেরে ওই নারী বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন।

জানা যায়, অনশনে বসা ওই নারী আব্দুস সালামের চাচাতো ভাই শাহ আলমের সাবেক স্ত্রী। চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ের পর থেকে সালাম তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। একপার্যায়ে বিষয়টি জানা জানি হলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি হলেও সালাম ওই নারীকে বিয়ে করতে রাজি হননি।  পরে ওই নারী আব্দুস সালামের তৎকালীন কর্মস্থল হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ থানা পুলিশকে অবগত করে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। বর্তমানে অভিযোগটি তদন্তাধীন।

এদিকে, গোপনে শুক্রবার (৫ নভেম্বর) উপজেলা ইসলামপুর এলাকায় বিয়ে ঠিক করেন সালামের পরিবার। বিয়ের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সালামের বাড়িতে অনশন শুরু করেন ওই নারী। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওই নারী অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

অনশনে থাকা নারী বলেন, ‘আব্দুস সালামের সাথে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। সে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে নিয়ে বিভিন্ন হোটেলে রাত্রী যাপন করেছে। তার কথায় স্বামীকেও ডিভোর্স দিয়েছি। এখন গোপনে বিয়ে করতে দিন তারিখও ঠিক করেছে।’

তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, ‘বাড়িতে প্রবেশের পর তাকে সালামসহ তার ভাবিরা মিলে মারধর করেন।’

মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে সালামের বাবা ও দুই ভাবি জানান, সালাম এই মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি না। তাই তারা অন্যত্র বিয়ে ঠিক করেছেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে মেয়েটি হঠাৎ করে এসে গালাগাল শুরু করে বাড়ির সামনে বসে আছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য তাজ উদ্দিন বলেন, ‘এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সালিস বৈঠক হয়। কিন্তু সালাম এ বৈঠকের রায় মানেননি। এখন আর আমাদের কিছু করার নেই।’

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান বলেন, বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *